ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ইরানের বিরুদ্ধে কী কী অস্ত্র ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৪-০৩-২০২৬ ১১:৩০:৫৯ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৪-০৩-২০২৬ ১১:৩০:৫৯ পূর্বাহ্ন
​ইরানের বিরুদ্ধে কী কী অস্ত্র ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন,


মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অত্যাধুনিক সামরিক শক্তির একটি বড় অংশ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত যোগাযোগ ও নজরদারি প্রযুক্তি-সব মিলিয়ে এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি প্রদর্শন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। দেশটির হাতে।


রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবহর। বিমানের সংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি। এছাড়া প্রায় ৫,২০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেডও রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ২০টিরও বেশি ধরনের বিমান, জাহাজ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। আলজাজিরা।

স্টেলথ বোমারু বিমান : এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান। এই বিমান সাধারণ ও পারমাণবিক উভয় ধরনের অস্ত্র বহন করতে পারে। গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বাংকার ধ্বংসকারী বোমা ফেলতেও এই বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া বি-১ বোমারু বিমানও ব্যবহৃত হয়েছে, যা মার্কিন বিমানবাহিনীর দ্রুততম বোমারু বিমানগুলোর একটি। এটি নির্ভুল ও ব্যাপক হামলার জন্য তৈরি এবং একসঙ্গে প্রায় ২৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে।

ড্রোন প্রযুক্তি : ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে। প্রথমবারের মতো ব্যবহার হচ্ছে লুকাস ড্রোন। এই ড্রোনের দাম ৩৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলারের মধ্যে। এছাড়া এমকিউ-৯ র‌্যাপার ড্রোনও ব্যবহার করেছে। এটি টানা ২৭ ঘণ্টা আকাশে থাকতে পারে এবং টার্গেটেড হামলা ও মোবাইল ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চার ধ্বংসে ব্যবহার করা হয়।

লেজার নির্দেশিত অস্ত্র : মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, যখন কোনো মিসাইল লঞ্চার শনাক্ত হয়, তখন চার মিনিটের মধ্যে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব হয়। এতে লেজার নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই ধরনের অস্ত্র আবাসিক এলাকায়ও তুলনামূলক কম পার্শ্বক্ষতি রেখে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র : প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অন্যতম আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র। স্থলভিত্তিক এই ক্ষেপণাস্ত্র ৪৯৯ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে পারে। যুদ্ধে এটি ইরানের জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো টমাহকও ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিটির দাম প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার এবং এগুলো সাধারণত সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।

বিমানবাহী রণতরি : মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন রয়েছে। এর একটি হলো জেরাল্ড ফোর্ড, যার দাম প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজ। অন্যটি আব্রাহাম লিঙ্কন যা ১৯৮০-এর দশকে তৈরি হয়েছিল এবং তখন এর দাম ছিল প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার। প্রতিটি রণতরি প্রায় ৯০টি পর্যন্ত যুদ্ধবিমান বহন করতে পারে।

যুদ্ধবিমান : অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে এফ-১৬, এফ/এ-১৮, এফ-২২, এফ-৩৫ এবং এ১০-১, এফ-২২ বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান।

ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান : ইএ-১৮জি নামের ইলেকট্রনিক আক্রমণ বিমানও এই অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। এতে উন্নত জ্যামিং সিস্টেম রয়েছে যা শত্রুর যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত করতে পারে এবং শত্রুর রাডার ও ইলেকট্রনিক হুমকি শনাক্ত করে তা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম।

উড়ন্ত রাডার ও নজরদারি বিমান : ইরানের আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে ই-৩ সেন্ট্রি বিমান। এটি দূর থেকে ড্রোন বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করতে পারে এবং যুদ্ধবিমানকে তা প্রতিহত করার নির্দেশ দেয়। আরেকটি বিমান ই-২ হকআই, যা শত্রু বিমান ও জাহাজ শনাক্ত করতে সক্ষম।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ